কম্পিউটার(Computer) এর আভিধানিক অর্থ গণনাকারী বা হিসাব-নিকাশের যন্ত্র হলেও বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বায়নে এক বিষ্ময়কর অবস্থানে ইহার ভূমিকা|
বর্তমান বিশ্বের কোন সেক্টরই কম্পিউটারকে বাদ দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়| এই অদ্ভুত যন্ত্রের কয়েকটি গোপন তথ্য নিয়ে কিছু কথা| দুই ধরনের উপাদান নিয়ে এ যন্ত্রটি কাজ করে থাকে| যেমন- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার (ঐধৎফধিৎব) এবং কম্পিউটার সফটওয়্যার (ঝড়ভঃধিৎব)| বাহ্যিক দৃশ্যমান যন্ত্রাংশ যেমন-মনিটর, কী-বোর্ড, মাউজ, প্রিন্টার, স্পীকার, সিস্টেম ইউনিট(সিপিইউ) ইত্যাদি হার্ডওয়্যার| এগুলোর সমš^য়ে একটি কম্পিউটার সেট যা আলাদা আলাদাভাবে ক্রয় করে যে কেউ একটি কম্পিউটার তৈরী করতে পারে| সিস্টেম ইউনিটের ভিতর একটি হার্ডডিস্ক লাগানো হয় যেখানে সফটওয়্যারগুলো সেটিং বা লোড করা হয়| যেমন- উইনডোজ, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল, মাইক্রোসফট এক্সেস, মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট, মিডিয়া প্লেয়ার, ফটোসপ, ইলাস্ট্রেটর এরকম অগণিত সফটওয়্যার| সাধারণ টাইপের কাজ করার জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, ইলাস্ট্রেটরসহ কিছু সফটওয়্যার| হিসাব স¤^লিত কিছু কাজের জন্য এক্সেলসহ বিভিন্ন ধরনের একাউন্টিং সফটওয়্যার| ভোটার তালিকার মত ডেটাবেইজ কাজের জন্য মাইক্রোসফট এক্সেস-এর মত কিছু সফটওয়্যার| ডিসপ্লে বা প্রদর্শনীর জন্য মাইক্রোসফট পাওয়ার-পয়েন্টসহ কিছু সফটওয়্যার| অডিও-ভিডিও গানের জন্য মিডিয়া প্লেয়ার, হিরোসহ কিছু মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার| ইন্টারনেট-এর জন্য ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারসহ কিছু সফটওয়ার| ই-মেইল করার জন্য মাইক্রোসফট আউটলুক, গুগোলসহ কিছু সফটওয়্যার| এসব সফটওয়্যার প্রয়োজন মত কম্পিউার হার্ডডিস্কে সেটিং করে নিতে হয়| এছাড়াও একেক সংগঠন বা সংস্থার নির্দিষ্ট কোন কাজের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বিশেষ পদ্ধতিতে ডেভলপ করা বিভিন্ন ধরনের কাস্টমাইজ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়|
এককথায় সফটওয়্যারই হচ্ছে কম্পিউটারে কাজ করার মুল চালিকাশক্তি| ব্যাংকের জন্য তাদের নিজ¯^ কাজের ধারা অনুসারে একটি সফটওয়্যার ডেভলপ না করলে কম্পিউটারভিত্তিক ব্যাংক পরিচালনা করা যাবে না| ডাক্তারদের জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় পদ্ধতি অনুসারে রোগ নির্ণয়ের তথ্যস¤^লিত বিশেষ সফটওয়ার তৈরী না করলে কম্পিউটারভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি চালানো যাবে না| শুধু কম্পিউটারের মাধ্যমে টাইপ করে প্রেসক্রিফশন দিলে কম্পিউটারাইজ ক্লিনিক বা হাসপাতাল হয় না| এভাবে দেশের যাবতীয় কাজের জন্য কম্পিউটারভিত্তিক প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ডেভলপ না করলে দেশকে বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কম্পিউটারাইজ অফিস ব্যবস্থাপনা বা ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়|
এসব কাজের জন্য কম্পিউটারের যে বিশেষ সফটওয়্যারগুলি ডেভলপ করা দরকার তা সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন না করলে ডিজিটালের কাঙ্খিত লক্ষ্যে জাতিকে পৌঁছানো যাবে না এবং কম্পিউটারাইজড বিশ্বায়ন থেকে জাতি বিচ্যুত হয়ে অনুন্নত জাতিতে পরিণত হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না|
এজন্যই প্রথমে সরকারি কর্মকর্তাদের কম্পিউটার সংক্রান্ত ক্লিয়ার ধারণা থাকতে হবে| তারপর তাঁরাই অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্ব বোঝায়ে ছোটবড় সবাইকে কম্পিউটার শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করবেন|
অফিস-বাসা বা স্কুল-কলেজে ডজনে ডজনে কম্পিউটার রেখে শুধু টাইপের কাজ করলে কম্পিউটার দিয়ে জাতির ভাগ্য পরিবর্তন আদৌ সম্ভব নয়, বরং সরকারের অর্থনৈতিক অপচয় বা ক্ষতি ছাড়া কিছুই হবে না|
অনেক দেরীতে হলেও বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনার সাথে সাথে ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট পদ্ধতিতে অফিসিয়্যাল কার্যক্রম পরিচালনা করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তা অত্যন্ত অবশ্যম্ভাবী| সরকারের এ উদ্যোগে অনেকেই না বুঝে হাসাহাসি করলেও একসময় প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের অজ্ঞতার কথা বুঝতে পারবে| যেরকম টেলিভিশন, ইলেকট্রিসিটি বা মোবাইলের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পারছেন|
No comments:
Post a Comment